সীরাতুন্নবীর আদর্শ অনুসরণে ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে: ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সীরাত ও ইসলামী শ্রমনীতির আলোকে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শ্রমের মর্যাদা রক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা, ঢাকার মুহাদ্দিস ড. মুফতি আবুল কালাম আজাদ বাশার।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার উদ্যোগে আয়োজিত তাফসিরুল কুরআন মাহফিল ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
থানা সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র পদপ্রার্থী জননেতা মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী এবং ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও নগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান।

ড. মুফতি আবুল কালাম আজাদ বাশার বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ইসলামী শ্রমনীতির মূল লক্ষ্য হলো শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা, শ্রমের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং মালিক-শ্রমিকের মধ্যে ন্যায়সংগত সম্পর্ক গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, ইসলাম শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমের বিনিময়ে ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান ইসলামী আদর্শের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মহানবী (সা.)-এর সীরাত অনুসরণ করে সমাজের সর্বস্তরে ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন ঘটাতে পারলে শোষণ, বৈষম্য ও বঞ্চনামুক্ত কল্যাণকর সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করতে ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তিনি ইসলামী আদর্শের আলোকে জনকল্যাণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনব্যবস্থার অন্যতম চালিকাশক্তি। অথচ অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। ইসলামী শ্রমনীতির আলোকে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সংগঠিত উদ্যোগ ও নৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বায়েজিদ থানার আমীর মাওলানা জাকির হোসাইন,বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ সভাপতি মকবুল আহমদ ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম,বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন হযরত মাওলানা শরিয়ত উল্লাহ জিহাদি, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. যুবায়েত আরেফিন,বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ আব্দুর রব, বারবকুণ্ড বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মুহাম্মদ আল-আমিন, শেরশাহ বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মুজাম্মিলুল হক।

সর্বশেষ