১৪ অক্টোবর: আলেম ওলামার মধ্যে ঐক্যের জন্য সংলাপের বিকল্প নেই। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নীতিই হচ্ছে বিভেদ নয় ঐক্য। এবং রাসুলুল্লাহ সাঃ এর আদর্শ অনুসরণ করে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, শ্রমের মর্যাদা রক্ষা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক মুফতি আলী হাসান ওসামা।
তিনি গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের বায়তুল আরাফ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মসজিদের সভাপতি ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইআইইউসির সহযোগী অধ্যাপক ও ওয়ালী খাঁ জামে মসজিদের খতীব ড. মাহমুদুল হাসান,জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী জননেতা শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, মাওলানা লুকমান হাকিম, মহানগরীর সহ সভাপতি মকবুল আহমদ ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম, বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের সভাপতি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বন্দর থানা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম আদনান, বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিন ও শ্রমিক নেতা গোলাম কিবরিয়া।
মুফতি আলী হাসান ওসামা বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামে শ্রমের মর্যাদা ও মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ, তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ইসলামী মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মালিক, শ্রমিক এবং সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে।
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের শিক্ষা শুধু আলোচনা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ বাস্তব জীবনে অনুসরণ করতে হবে। তাঁর শিক্ষা ধারণ করে শ্রমিকবান্ধব, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, ন্যায়সংগত আচরণ ও তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই মহানবী (সা.)-এর আদর্শের বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব।