কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে : এস এম লুৎফর রহমান

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেছেন, নারী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও আদর্শবান মহিলা কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা সময়ের অন্যতম দাবি। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের মহিলা কর্মীদের নৈতিকতা, আদর্শ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে শ্রমজীবী নারীদের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আজ চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক কল্যাণ মহিলা বিভাগের উদ্যোগে দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মহিলা বিভাগের সভানেত্রী রোকেয়া বেগম চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরের কর্ম পরিষদ সদস্য রাবেয়া বেগম, মজলিসে শুরা সদস্য মরিয়ম আবসার ভূঁইয়া, এবং শ্রমিক নেত্রী মোরশেদা।

এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনে মহিলা কর্মী ও ইউনিট দায়িত্বশীলদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দায়িত্বশীল কর্মীকে সর্বাগ্রে নিজের চরিত্র, আমল, জ্ঞান ও সাংগঠনিক যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বীনি চেতনা, তাকওয়া, দায়িত্ববোধ ও সেবার মানসিকতা অর্জনের মাধ্যমেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। আদর্শবান মহিলা কর্মীরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, বিশেষ করে গার্মেন্টস, সেবা ও উৎপাদন খাতে বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক কর্মরত থাকলেও তাদের অনেকেই এখনো নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মস্থলে সম্মানজনক আচরণ থেকে বঞ্চিত। নারী শ্রমিকদের প্রতি যেকোনো ধরনের বৈষম্য, হয়রানি ও শোষণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেবল শ্রমিকদের অর্থনৈতিক অধিকার নয়, তাদের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনও পরিচালনা করে। মহিলা কর্মীদের শ্রমজীবী নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে নারী মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রতীক। তাই রাষ্ট্র, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নারী শ্রমিকদের জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় আরও শক্তিশালীভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি উপস্থিত মহিলা কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও নিবেদিত কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শ্রমজীবী নারীদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আপোষহীন ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ