বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসকে অধিকার আদায়ের কার্যকর দিবসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে প্রকৃত অর্থে শ্রমিক দিবসের তাৎপর্য বাস্তবায়িত হবে না।
তিনি আজ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে জামাল খানস্থ ফেডারেশনের নগর কার্যালয়ে ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ও সাংগঠনিক চাঁদাপক্ষ উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা সংগ্রামের প্রতীক। তিনি বলেন, “আজকের বাংলাদেশে শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি, কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিবেশ থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা না হলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও নৈতিক কর্তব্য। কারখানা ও কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, “শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভাজন ও দুর্বলতা শ্রমিক আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে সফল করতে হলে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সুসংগঠিত নেতৃত্বের বিকল্প নেই। সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।”
তিনি আসন্ন আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের কর্মসূচিকে অর্থবহ, ফলপ্রসূ ও গণমুখী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাস্তবমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে হবে। শ্রমিক দিবসকে এমনভাবে উদযাপন করতে হবে, যাতে এটি অধিকার আদায়ের শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠে।”
একই সঙ্গে তিনি সাংগঠনিক চাঁদা পক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “একটি শক্তিশালী ও গতিশীল সংগঠন গড়ে তুলতে অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করা জরুরি। নিয়মিত চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা সম্ভব, যা শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
এস এম লুৎফর রহমান আরো বলেন, শ্রমিক দিবসকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের পাশাপাশি এর চেতনাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করতে হলে সংগঠনের ভিত মজবুত করা জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক চাঁদা পক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের মজুরি, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। তিনি আসন্ন শ্রমিক দিবসের কর্মসূচিকে অর্থবহ ও গণমুখী করার ওপর জোর দেন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের নগর সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ ও আসাদ উল্ল্যাহ আদিল।
এটা আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স.ম. শামীম, সহ-প্রচার সম্পাদক আবদুর রহিম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জি: সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।