চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর জন্য নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর কাঠামো অনুযায়ী, ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৪টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলরবৃন্দ, পাশাপাশি একজন নির্বাচিত সিটি মেয়রের নেতৃত্বে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনই এই কাঠামোর মূল ভিত্তি।
তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন বাতিল সংক্রান্ত একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আদালতের আশ্রয় নিয়ে মেয়র পদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে—এটি কতটুকু বৈধ এবং গণতান্ত্রিক নীতিমালার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আদালতের অজুহাতে ক্ষমতা ধরে রাখা নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিতর্কিত। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এছাড়া, বর্তমানে ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৪টি মহিলা ওয়ার্ডের কার্যক্রম কারা পরিচালনা করছেন, এবং যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাঁদের বৈধতা কতটুকু—এসব প্রশ্নও স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।
পরিশেষে, একজন ব্যক্তির একক কর্তৃত্বে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে কতটা কার্যকর—তা নিয়েও গভীরভাবে ভাবার অবকাশ রয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে এ বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট সমাধান অপরিহার্য।
এস এম লুৎফর রহমান
কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি চট্টগ্রাম মহানগরী
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী