পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে শ্রমিক-জনতাসহ নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে বসবাসরত শ্রমিক জনতা ও বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার মালিক-ব্যবসায়ীসহ নগরবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী।

এক যৌথ শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহামূল্যবান উপহার। রমজান আমাদেরকে আত্মসংযম, তাকওয়া, ধৈর্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই মাসের ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে বাস্তবায়িত হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠন সম্ভব।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈদের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ সেই আনন্দে শরিক হতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে দেশের বহু শ্রমজীবী মানুষ ঈদের পূর্বে এখনো তাদের ন্যায্য বেতন ও বোনাস পায়নি। এতে তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। যারা সারা বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের শিল্প, উৎপাদন ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, সেই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ না হওয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়।

তারা বলেন, বিশেষ করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা—যারা দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, ছোট কারখানা ও বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক পেশায় নিয়োজিত—তাদের জীবনে ঈদের আনন্দ অনেক সময় পুরোপুরি পৌঁছায় না। সীমিত আয়, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের জন্য ঈদের প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—যেন তারা শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করে তাদের পাশে দাঁড়ান।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ইসলাম ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়। যাকাত, ফিতরা ও দান-সদকার মাধ্যমে অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা ইসলামের অন্যতম নির্দেশনা। এই মহান শিক্ষাকে সামনে রেখে সমাজের বিত্তবান মানুষদের উচিত দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো, যাতে তারাও ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে।

নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন—পবিত্র ঈদুল ফিতরের শিক্ষা আমাদের জীবনে শান্তি, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা যোগাক এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনুক।

সর্বশেষ