বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সকল শ্রেণি-পেশার শ্রমিকদের সক্রিয় ও সংগঠিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সংগঠিত শ্রমিক শক্তি ছাড়া টেকসই রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার পতেঙ্গা থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক পরিকল্পনা ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, “শ্রমিকরা সংগঠিত হলে তারা নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়। ভোটাধিকার প্রয়োগ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির মাধ্যমে শ্রমিকরা গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে পারে।”
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আজ পর্যন্ত শ্রমিক সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রত্যাশিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেনি। “শ্রমিকরা যদি একটি সংগঠিত শক্তিতে পরিণত হতে পারে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় সম্ভব হবে,” যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক নেতৃত্ব সংসদ ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি, কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যাবে। শ্রমিক নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা তুলে ধরতে সক্ষম এবং দুর্নীতি, অন্যায় ও লুটপাটের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকে।
জাতীয় রাজনীতিতে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শ্রমিক নেতৃত্ব শ্রেণি, পেশা ও অঞ্চলের বিভাজন অতিক্রম করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে পারে।”
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, সংগঠনের অন্যতম বড় পরিকল্পনা হলো শ্রমিকদের ব্যাপকভাবে সংঘটিত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ব্যতীত শ্রমিকদের অধিকার পূর্ণভাবে আদায় সম্ভব নয়—এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট সত্য।”
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ইসলামী শ্রমনীতির পতাকাতলে দেশের শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার আলোকে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে পতেঙ্গা থানা সভাপতি মুহাম্মদ মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের নগর সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক। এছাড়াও শ্রমিক নেতা একেএম শাহাবুদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।