চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট অবিলম্বে সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান।
বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব মহানগর কার্যালয়ে আয়োজিত মাসিক সেক্টর দায়িত্বশীল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, আওয়ামী সরকারকে জনগণ ক্ষমতা থেকে সরিয়েছিল মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও দেশ পরিচালনায় তাদের ব্যর্থতার কারণে। আমরা দেখেছি ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপ ও ষড়যন্ত্রের মধ্যে দায়িত্ব পালন করলেও গ্যাস বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু যারা বলেছিল নির্বাচন হলে সব সমস্যার সমাধান হবে তারা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসে ছয় মাস অতিক্রম করলেও সমস্যা সমাধান তো হয়নি বরং সংকট বেড়েছে কয়েকগুণ।
তিনি বলেন, জনগণ আশা করেছিল নতুন সরকার পুরোনো বন্দোবস্ত ও চিন্তা থেকে বেরিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু জুলাই সনদ ও গণভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে জনগণের সঙ্গে তারা বেইমানি করেছে। আজ পৃরতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। খুন, হত্যা, রাহাজানি ও চাঁদাবাজির কারণে মানুষ ঘরে-বাইরে, বন্দরে, গ্রাম-গঞ্জে কোথাও নিরাপদ বোধ করছে না।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতেও সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। গ্যাসের অভাবে মানুষ রান্না করতে পারছে না, বিদ্যুতের অভাবে স্বাভাবিক নাগরিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা রাতের পর রাত অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছে না। তাই অবিলম্বে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে হবে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, ডাকাতি, ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। ব্যর্থ মন্ত্রীদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় জনগণ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে এসব অপকর্মের জবাব দেবে। তিনি দায়িত্বশীলদের নিজ নিজ সেক্টরে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানান।
সভায় মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ , কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স ম শামীম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক প্রমুখ