এস এম লুৎফর রহমান

সহ-সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি ও সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর

শ্রমিকনেতা এস এম লুৎফর রহমানের জন্ম ১৯৭৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চুনতী ইউনিয়নের নারিশ্চা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মরহুম বজলুর রহমান এবং মাতা হোসনে আরা খানম। পুটিবিলা হামেদিয়া ফাজিল মাদরাসায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে এস এম লুৎফর রহমান শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৯১ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের তৎকালীন চট্টগ্রাম সদর অঞ্চলের অধীন আন্দরকিল্লা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে তার সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধাপে ধাপে তিনি শ্রমিক দায়িত্বশীলদের তত্ত্বাবধানে বিকশিত হন। প্রথমে ইউনিট সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালনের সূচনা হয় এস এম লুৎফর রহমানের। এরপর তিনি থানা পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ সালে ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তৎকালীন অবিভক্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাহায্য ও পুনর্বাসন সম্পাদক নির্বাচিত হন এস এম লুৎফর রহমান। ১৯৯৭ সালে তিনি আন্দরকিল্লা দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন।

ফেডারেশনের চট্টগ্রাম সদর অঞ্চলের সভাপতির দায়িত্বপালনকালে তিনি শ্রমিকনেতা হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি ধারাবাহিক দায়িত্বপালন করেন। ২০০২ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রচার সম্পাদক, ২০১৪ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৭ সালে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।

২০২৩-২০২৪ সেশনে এস এম লুৎফর রহমান বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৫-২০২৬ সেশনে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হন।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে দায়িত্বপালনের পাশাপাশি তিনি ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্বপালন করে আসছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।  কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০১২ সালে সহকারী প্রচার সম্পাদক, ২০১৪ সালে প্রচার সম্পাদক, ২০১৬ সালে ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক এবং ২০১৮ সাল থেকে সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করে আসছেন তিনি। 

কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, লেবার কোড–১৯৯৪ বিরোধী শ্রমিক আন্দোলনসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথে সরব। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ও আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। 

শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্বপ্রদান এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি বারবার রাজনৈতিক জুলুম-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে তার বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় তিনি চার দফা গ্রেফতার, ৯ দিনের রিমান্ড, শারীরিক নির্যাতন এবং ৪ দিন গুমের শিকার হন। 

শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি এস এম লুৎফর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ১৯৯৫ সালের মার্চে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রুকন শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চট্টগ্রাম মহানগরীর শুরা সদস্য, ২০২০ সাল থেকে কর্মপরিষদ সদস্য এবং ২০২৫ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শ্রমিকনেতা ও শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে তিনি আইআরআই, আইএলওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শ্রম সংস্থা আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এস এম লুৎফর রহমান শ্রমিকসেবা ও সমাজসেবায় ধারাবাহিক অবদান রেখে চলেছেন। দরিদ্র শ্রমিকদের সহযোগিতায় তিনি বছরের পর বছর নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নিজ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নের সাথেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল পরিচালনায় তিনি দীর্ঘদিন থেকে সম্পৃক্ত। হিন্দু ও বৌদ্ধদের বিভিন্ন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানেও তিনি সদাতৎপর।

এস এম লুৎফর রহমান প্রকাশনা ও পুস্তক ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত আছেন কয়েক দশক থেকে। তিনি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য, এডিশনাল সেক্রেটারি ও সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বপালন করে আসছেন।